দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একসময় তাদের প্রেম ছিল বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কগুলোর একটি। পর্দার রসায়নও মুগ্ধ করেছিল দর্শকদের। কিন্তু সেই প্রেমের গল্পের শেষটা হয়েছিল তিক্ততায়। সম্পর্ক ভাঙার পর সালমান খানের সঙ্গে আর কখনো কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। সালমানের সঙ্গে কাটানো সময়কে নিজের জীবনের ‘দুঃস্বপ্ন’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাস্তব জীবনের পাশাপাশি পর্দায়ও তাদের জুটি দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। তবে একপর্যায়ে সেই সম্পর্কে ভাঙন ধরে। ঐশ্বরিয়ার অভিযোগ ছিল, সালমানের মদ্যপান, দুর্ব্যবহার এবং মৌখিক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তিনি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া জানিয়েছিলেন, বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারেননি সালমান। তিনি বারবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতেন। ঐশ্বরিয়া ফোন ধরতে অস্বীকৃতি জানালে সালমান নিজের শরীরে আঘাত করতেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন অভিনেত্রী।
২০০২ সালে এ সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে একটি আবেগঘন বিবৃতি দেন ঐশ্বরিয়া। সেখানে তিনি জানান, নিজের সুস্থতা, মানসিক স্থিরতা, মর্যাদা এবং পরিবারের সম্মানের কথা বিবেচনা করে সালমানের সঙ্গে সব ধরনের পেশাগত সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিবৃতিতে ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘নিজের ভালো থাকা, মানসিক সুস্থতা, মর্যাদা এবং পরিবারের সম্মান ও আত্মসম্মানের স্বার্থে যথেষ্ট হয়েছে। আমি আর কখনো মি. সালমান খানের সঙ্গে কাজ করব না। সালমান অধ্যায়টি আমার জীবনের একটি দুঃস্বপ্ন ছিল। ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ, সেই অধ্যায়ের অবসান হয়েছে।’
সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ঐশ্বরিয়া আরও বলেন, দীর্ঘদিন তিনি তার আচরণ ও ভুলত্রুটি নিয়ে নীরব থেকেছেন। কিন্তু সালমান, তার পরিবার ও বন্ধুরা দায়িত্বজ্ঞানহীন গুজব ছড়িয়ে বারবার তার এবং তার পরিবারের সম্মানহানি করেছেন।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, সম্পর্কের কঠিন সময়ে তিনি সালমানের পাশে ছিলেন। তার মদ্যপান ও দুর্ব্যবহার সহ্য করেছেন। বিনিময়ে তাকে মৌখিক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অবিশ্বস্ততা এবং অসম্মানের শিকার হতে হয়েছে। একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী হিসেবে প্রায় দুই বছর আগেই তিনি এ সম্পর্কের ইতি টেনেছিলেন।
ঐশ্বরিয়া আরও অভিযোগ করেন, তার নীরবতার সুযোগ নিয়ে অনেকে নিজের মতো করে বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছেন। তার চরিত্র নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে এবং সহশিল্পীদের সঙ্গে তার স্বাভাবিক পেশাগত সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে এসব ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ্যে আনতে চাননি ঐশ্বরিয়া। তার ভাষায়, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি কিংবা নতুন করে কুৎসা ছড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই। দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে তার শান্তি ও মানসিক স্থিরতা নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, একটি প্রায় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐশ্বরিয়া ওই বিবৃতি দিয়েছিলেন। সেই বিবৃতির মধ্য দিয়ে সালমানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতে তার সঙ্গে কাজ না করার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন অভিনেত্রী।
/অ